-সংক্ষিপ্ত পরিচিতি-


মানব সভ্যতাকে যদি একটি বিশাল শক্তিধর যানবাহনের সাথে তুলনা করা যায়, সেখানে আমরা সবাই আরোহী, তাহলে এর ইঞ্জিন হচ্ছে প্রযুক্তি। বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে বলতে হয় কর্মমূখী শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। একটি শিক্ষিত জাতি তথা দেশ গঠনে সমাজের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব রয়েছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক উন্নয়নে শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা আবশ্যক। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ যেখানে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে যাচ্ছে, সেখানে আমাদের দেশ দক্ষ জনশক্তির অভাবে উন্নত বিশ্ব থেকে দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে। গ্লোবালাইজেশনের যুগে বসবাস করে একবিংশ শতাব্দির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও নতুন বিশ্ব চাহিদার কথা বিবেচনা করতে হলে সর্বপ্রথম এ দেশে বিশাল জনগোষ্ঠীকে আধুনিক প্রযুক্তিগত জ্ঞানের সাথে সম্পৃক্ত করে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে হবে এবং তাদের দক্ষতা ও কর্ম-পরিধির প্রসার ঘটাতে হবে। বৃদ্ধি করতে হবে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি আহরনের সুযোগ। বর্তমান সরকার ২০২১ সালের মধ্যে কারিগরি শিক্ষাকে ২৫% উন্নতি করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কৌশল নির্ধারণ করেছে যা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি উজ্জ্বল যুগ সূচিত হয়ে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে এ দেশ একটি মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে কারিগরি শিক্ষাকে ৬০% উন্নতির মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ একটি উন্নত দেশ হিসেবে পরিণত হবে। এর প্রধান ক্ষেত্রটি হচ্ছে বিশ্ব কর্মবাজারে আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েদের অংশগ্রহণ। বর্তমানে আমাদের প্রয়োজন এক নতুন মূল্যবোধ, নতুন এক প্রেরণা ও ভিন্ন মাত্রার দেশপ্রেম, যা সম্ভব বলে মনে হয় আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধে তরুণদের আত্মত্যাগের দৃষ্টান্তে। অনুন্নত দেশগুলোতে মাথাপিছু আয় ধনী দেশগুলোর তুলনায় শুধু কম নয়, এর ব্যবধান ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বীজ যেখানে একবার রোপিত সেখানে উন্নততর শিক্ষা, উন্নততর উৎপাদন ব্যবস্থা ও উন্নত জীবনের আকাঙ্খা সমন্বিত হয়ে উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে ত্বরাণ্বিত করে। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিতের হার অনেক বেশি। আমাদের দেশেও এর চাহিদা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষায় একটা গণজাগরণ তৈরী হতে যাচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়। দেশে ইতোমধ্যে কারিগরি শিক্ষার উপর অনেক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, বিশেষ করে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে অধ্যয়নরত অবস্থায় থাকবে মাসিক বৃত্তির ব্যবস্থা সহ সকলের চাকুরির নিশ্চয়তা, শিক্ষা পদ্ধতি হবে আরো উন্নত যা আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে এখানে এ ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাবে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ভর্তি হতে পারছে না অনেক শিক্ষার্থী। এসব চাহিদার কথা বিবেচনা করে গত ২০০৯ সনে উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম ও বিভাগীয় শহর রংপুরে গড়ে উঠেছে সুবৃহৎ পরিসরে রংপুর আইডিয়াল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (জওওঞ) নামের একটি অত্যাধুনিক বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। যার মানদন্ডে ইতোমধ্যে সমগ্র উত্তরবঙ্গে ব্যাপক সাড়া জাগিয়ে তুলেছে। এখানে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং (সিভিল, ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল, কম্পিউটার ও ইলেকট্রনিক্স) এবং ডিপ্লোমা-ইন-টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং (টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস ডিজাইন এন্ড প্যাটার্ন মেকিং) কোর্স পরিচালিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে আগ্রহী সকলের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে দেশে যেমন বৃদ্ধি পাবে তথ্য প্রযুক্তি সচেতনতা ও আত্মনির্ভরশীলতা, তেমনি দারিদ্র বিমোচন ও বেকারত্ব দূর হবে এবং দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে সমৃদ্ধ হবে দেশ ও জাতি। এ ধরণের শিক্ষা অনুরাগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকবৃন্দের এই শিক্ষা ভূবনে আসার জন্য আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।